| | | | | |

শিশুর বিরুদ্ধে সমাজ | পর্ব ১

আশির দশকের ছবির ভেতর যে নিরাপদ সমাজ আমরা খুঁজি

নস্টালজিয়া, শৈশব এবং সহিংসতার নতুন নৈকট্য

আশি-নব্বইয়ের মতো দেখতে AI ছবিতে ভরে উঠছে আমাদের সামাজিক মাধ্যম। কিন্তু এই নস্টালজিয়া কি শুধু পুরোনো সময়ের প্রতি মায়া, নাকি এমন একটি নিরাপদ, আন্তরিক ও বোধগম্য সমাজের জন্য আকাঙ্ক্ষা—যেখানে অন্তত আমাদের স্মৃতিতে শিশুরা আরও স্বাধীনভাবে পৃথিবীতে হাঁটতে পারত?

গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে যেন সময় উল্টো দিকে হাঁটছে।

পরিচিত মানুষের মুখ, কিন্তু চুল আশির দশকের। পোশাকের কাট অন্যরকম। ছবিতে পুরোনো স্টুডিওর নরম আলো, ফিল্মের grain, একটু ফিকে রং। কাউকে দেখে মনে হয় ১৯৮৬ সালের কোনো পারিবারিক অ্যালবাম থেকে উঠে এসেছেন, কাউকে নব্বইয়ের কোনো স্টুডিও থেকে।

অথচ অধিকাংশ ছবিই কোনো পুরোনো অ্যালবাম থেকে উদ্ধার করা নয়।

২০২৬ সালের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তিগুলোর একটি—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—ব্যবহার করেই আমরা নিজেদের এমন এক অতীতে বসিয়ে দিচ্ছি, যেখানে আমাদের কেউ কেউ কখনো ছিলামই না। ৯ সেপ্টেম্বর bdnews24 বাংলাদেশের সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই প্রবণতাকে সরাসরি ‘80s AI photo wave’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

দেখতে বিষয়টি নিরীহ। আনন্দেরও।

কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রশ্নটি ‘আশির দশকে আমাকে কেমন দেখাত?’ নয়।

প্রশ্নটি হলো—

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা নিজেদের আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকে দেখতে এত আগ্রহী কেন?

আমরা কি সত্যিই ক্যাসেট প্লেয়ার ফিরে চাই?

চিঠি?

সাদাকালো টেলিভিশন?

ফিল্ম ক্যামেরা?

লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা?

দুই চাকার সাইকেল নিয়ে হারিয়ে যাওয়া বিকেল?

নাকি এসব দৃশ্যের আড়ালে আরও গভীর কিছু খুঁজছি?

আমার মনে হয়, আমরা হয়তো এমন একটি সামাজিক জগতের অনুভূতি খুঁজছি, যাকে আমাদের স্মৃতি নিরাপদ, আন্তরিক এবং বোধগম্য বলে নির্মাণ করেছে।

একটি পৃথিবী যেখানে পাশের বাড়িতে কে থাকে জানতাম। পাড়ার দোকানদার আমাদের চিনতেন। মাঠে খেলতে যাওয়া শিশুটি কার ছেলে বা মেয়ে, আশপাশের আরও কয়েকজন জানতেন। বন্ধুত্বের শরীর ছিল, বাড়ি ছিল, দরজা ছিল।

যোগাযোগেরও শেষ ছিল।

রাত নামত।

টেলিভিশন বন্ধ হতো।

মানুষকে পাওয়া যেত না—এবং না পাওয়াটাও স্বাভাবিক ছিল।

আজকের পৃথিবীটি আর বন্ধ হয় না।

সংবাদ শেষ হয় না।

নোটিফিকেশন শেষ হয় না।

ছবি শেষ হয় না।

তুলনা শেষ হয় না।

ভয়ও শেষ হয় না।

মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় nostalgia-কে কেবল অতীত নিয়ে আবেগ হিসেবে দেখা হয় না; nostalgic reflection মানুষের social connectedness এবং অতীত ও বর্তমানের নিজের মধ্যে ধারাবাহিকতার অনুভূতি—self-continuity—বাড়াতে পারে।

তাই আমার কাছে নস্টালজিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো:

নস্টালজিয়া কখনো কখনো অতীত সম্পর্কে যতটা বলে, বর্তমান সম্পর্কে তার চেয়েও বেশি বলে।

আমরা যখন বর্তমানকে দ্রুত বদলে যাওয়া, অনির্দেশ্য এবং দুর্বোধ্য মনে করি, তখন একটি ‘বোঝা যেত এমন’ অতীত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

কিন্তু এখান থেকেই আমার অস্বস্তি শুরু।

কারণ আশি-নব্বইয়ের কথা উঠলে আমার প্রজন্মের অনেকেই বলেন—আমাদের শৈশব অনেক নিরাপদ ছিল।

সারাদিন বাইরে খেলেছি।

মা-বাবা ঠিক জানতেন না কোথায় আছি।

সাইকেল নিয়ে অনেক দূর চলে গেছি।

সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছি।

ফোন ছিল না। GPS ছিল না। CCTV ছিল না।

তারপরও যেন ভয় এত ছিল না।

এই স্মৃতি মিথ্যা নয়।

কিন্তু স্মৃতি আর সামাজিক ইতিহাস এক জিনিস নয়।

কার শৈশব নিরাপদ ছিল?

অতীতের বাংলাদেশকে সামগ্রিকভাবে শিশুদের জন্য বেশি নিরাপদ সমাজ বলে দাবি করা কঠিন।

শিশুর সবচেয়ে মৌলিক নিরাপত্তা—বেঁচে থাকার সম্ভাবনা—দিয়েই শুরু করা যাক।

UNICEF-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহার ছিল প্রতি ১,০০০ জীবিত জন্মে ১৪৬.৫। ২০২৪ সালে সেটি ৩০.৫-এ নেমেছে। অর্থাৎ প্রতি হাজার জীবিত জন্মে মৃত্যু কমেছে ১১৬টি।

শতকরা হ্রাস:

(১৪৬.৫ − ৩০.৫) ÷ ১৪৬.৫ × ১০০ = প্রায় ৭৯.২ শতাংশ।

অন্তত এই অর্থে আজকের শিশু নব্বইয়ের শুরুর শিশুর তুলনায় বিপুলভাবে নিরাপদ।

কিন্তু অন্যদিকে বর্তমানের চিত্রও মোটেই স্বস্তিকর নয়।

Bangladesh Multiple Indicator Cluster Survey 2025 অনুযায়ী, ১–১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮৫.৭ শতাংশ জরিপের আগের এক মাসে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের কাছ থেকে physical punishment এবং/অথবা psychological aggression-এর অভিজ্ঞতা পেয়েছে। ৫–১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯.২ শতাংশ child labour-এ যুক্ত। আর ২০–২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭.২ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছর হওয়ার আগেই।

তাই ‘আগে শিশুরা নিরাপদ ছিল’—বাক্যটি বলার আগে আমাদের আরেকটি প্রশ্ন করা দরকার:

কার আশি? কার নব্বই? কার শৈশব?

ঢাকার কোনো মধ্যবিত্ত ছেলের স্মৃতিতে নব্বইয়ের দশক হয়তো মাঠ, ক্রিকেট, সাইকেল, পুকুর, মামাবাড়ি।

কিন্তু একই দশক একটি মেয়ের কাছে কেমন ছিল?

একটি শিশু গৃহকর্মীর কাছে?

একজন শ্রমজীবী শিশুর কাছে?

অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়েটির কাছে?

কিংবা এমন একটি শিশুর কাছে, যে পরিবার, স্কুল, মাদ্রাসা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল—কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতাটিকে ‘নির্যাতন’ বলে চেনার ভাষাটিও যার ছিল না?

নস্টালজিয়ারও শ্রেণি আছে। লিঙ্গ আছে। অবস্থান আছে।

এবং এখানেই nostalgia-র একটি বিপদ আছে।

অতীতের নীরবতাকে আমরা অতীতের নিরাপত্তা বলে ভুল করতে পারি।

আমরা শিশু ভালোবাসি। কিন্তু শৈশবকে?

বাংলাদেশি সমাজ নিয়ে ভাবতে গিয়ে এই প্রশ্নটি আমাকে ক্রমেই বেশি অস্বস্তিতে ফেলে।

আমরা সন্তান ভালোবাসি।

সন্তানের জন্য আমাদের পরিবারগুলো বিপুল ত্যাগ করে। ভালো স্কুল, কোচিং, খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদ ভবিষ্যৎ—এসব নিয়ে আমাদের উদ্বেগের শেষ নেই।

কিন্তু শিশুকে ভালোবাসা এবং শৈশবকে সম্মান করা একই বিষয় নয়।

শিশুটির শরীর কি তার নিজের?

সে কোনো বড় মানুষের কথায় ‘না’ বলতে পারে?

তার privacy আছে?

তার ভয়কে আমরা গুরুত্ব দিই?

কোনো শিক্ষক, আত্মীয়, ধর্মীয় ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আমরা প্রথমে শিশুটির কথা শুনি, নাকি প্রাপ্তবয়স্কটির সামাজিক অবস্থান দেখি?

তার dignity কি obedience-এর চেয়ে বড়?

MICS-এর ৮৫.৭ শতাংশ violent discipline-এর সংখ্যাটি এই জায়গাতেই ভয়ংকর হয়ে ওঠে।

প্রতি একশ শিশুর প্রায় ছিয়াশি জন।

আমি যখন ‘শিশু-প্রতিপক্ষ সমাজ’ বলি, তখন এর অর্থ এমন কোনো সমাজ নয় যেখানে মা-বাবা তাদের সন্তানকে ভালোবাসেন না।

আমি বরং এমন একটি সামাজিক বিন্যাসের কথা বলছি, যেখানে প্রায়ই প্রাপ্তবয়স্কের কর্তৃত্ব শিশুর কণ্ঠের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে; obedience autonomy-র চেয়ে মূল্যবান হয়; আর পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের সম্মান কখনো কখনো শিশুর অভিযোগের চেয়েও বেশি রক্ষাযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

আমরা মারধরকে বলি শাসন।

অপমানকে বলি মানুষ করা।

অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণকে বলি নিরাপত্তা।

ভয়কে বলি অবাধ্যতা।

নীরবতাকে বলি লজ্জা।

প্রতিবাদকে বলি বেয়াদবি।

একটি সমাজ তাই তার শিশুদের প্রচণ্ড ভালোবাসতে পারে—এবং একই সঙ্গে শৈশবের প্রতি গভীরভাবে নির্মম হতে পারে।

যখন একটি শিশু কথা বলতে পারে না, কিন্তু তার শরীর বলে

সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতনের যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলো এই প্রশ্নকে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়কভাবে সামনে নিয়ে আসে।

এখানে সতর্ক থাকা জরুরি।

কিছু সংবাদ প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশের সব মাদ্রাসা সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতনের হার অন্য শিক্ষা বা আবাসিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি কি না—representative comparative evidence ছাড়া আমি তা নিশ্চিত করতে পারি না।

কিন্তু institutional safeguarding নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন যে আছে, সেটি অস্বীকার করার উপায়ও নেই।

২০২৬ সালের মে মাসে UNICEF বাংলাদেশে শিশুদের ওপর ধর্ষণ, হত্যা ও অন্যান্য সহিংসতার প্রতিবেদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে schools, madrasas, workplaces, neighbourhoods এবং care settings-এ শক্তিশালী accountability, reporting এবং institutional safeguarding-এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল।

এর কয়েক মাস পর সাভারের একটি আবাসিক মাদ্রাসায় সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ দশজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায়। মামলাটি বিচারাধীন; তাই অভিযোগকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে লেখা উচিত নয়।

কিন্তু সংবাদটির একটি অংশ আমাকে অন্য কারণে নাড়া দেয়।

শিশুটির বাবা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বাড়িতে ফিরলে ছেলেটি চুপচাপ থাকত। ঠিকমতো খেত না। মাদ্রাসায় ফিরে যেতে চাইত না। পরিবার প্রথমে মনে করেছিল, সম্ভবত পড়াশোনার চাপের কারণেই এমন করছে।

এই ছোট্ট তথ্যটি আমাদের সমাজ সম্পর্কে বিরাট একটি প্রশ্ন রেখে যায়।

শিশুটি হয়তো তখন ভাষায় বলতে পারেনি।

কিন্তু তার শরীর বলছিল।

তার চুপ হয়ে যাওয়া বলছিল।

খেতে না চাওয়া বলছিল।

ফিরে যেতে না চাওয়া বলছিল।

কোনো একটি পরিবারকে দায়ী করা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং প্রশ্নটি আমাদের সবার জন্য:

একটি শিশুর distress পড়ার ভাষা কি আমাদের আছে?

একটি শিশু হঠাৎ চুপ হয়ে গেলে আমাদের প্রথম ব্যাখ্যা কী?

অবাধ্য হয়েছে?

পড়তে চায় না?

খারাপ সঙ্গ?

মোবাইলের নেশা?

নাকি আমরা কখনো তার কাছে বসে জিজ্ঞেস করি—

তোমার সঙ্গে এমন কিছু ঘটছে কি, যা তুমি আমাকে বলতে পারছ না?

শিশুকে শুধু কথা বলতে শেখানো যথেষ্ট নয়।

তাকে এমন একটি পৃথিবী দিতে হয়, যেখানে কথা বললে বিশ্বাস করা হবে।

সহিংসতা এখন একদম কাছে

কিন্তু বর্তমানের এই প্রবল নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বোঝার জন্য আরেকটি পরিবর্তনের দিকে তাকানো প্রয়োজন।

আজ সহিংসতা শুধু ঘটে না।

সহিংসতা দেখা যায়।

আর শুধু দেখা যায় না—

সহিংসতা আমাদের একদম কাছে চলে আসে।

আগেও শিশু নির্যাতন হয়েছে।

যৌন সহিংসতা হয়েছে।

পরিবারে violence ছিল।

শিক্ষক শিক্ষার্থীকে মেরেছেন।

প্রতিষ্ঠান অভিযোগ চেপে রেখেছে।

পরিবার নীরব থেকেছে।

কিন্তু বহু ঘটনার circulation ছিল সীমিত।

একটি গ্রামের ঘটনা অন্য জেলার মানুষ জানতেন না।

একটি প্রতিষ্ঠানের ঘটনা হয়তো সেই প্রতিষ্ঠানের দেয়ালের বাইরে যায়নি।

একটি শিশুর অভিজ্ঞতা তার সারাজীবনের নীরবতা হয়ে থেকেছে।

আজ একটি ঘটনা ঘটে সাভারে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি আমার হাতে।

আমার বিছানায়।

আমার খাবার টেবিলে।

আমার ক্লাসের আলোচনায়।

আমার সন্তানের দিকে তাকানোর মধ্যে।

খবরটি Facebook-এ আসে।

কেউ share করে।

তারপর ভিডিও।

তারপর প্রতিবাদ।

কমেন্ট।

পাল্টা কমেন্ট।

ধর্মের প্রশ্ন।

রাজনীতির প্রশ্ন।

প্রতিষ্ঠানের সুনামের প্রশ্ন।

তারপর algorithm আমাকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা দেখায়।

ঘটনার physical geography আর তার emotional geography এখন আর এক নয়।

ঘটনাটি আমার কাছ থেকে ত্রিশ কিংবা তিনশ কিলোমিটার দূরে ঘটতে পারে।

কিন্তু আমার চেতনায় সেটি মাত্র একটি screen-touch দূরে।

এই অবস্থাটিকে আমি বলতে চাই:

সহিংসতার নতুন নৈকট্য — The New Proximity of Violence

আমি এটিকে সহিংসতার পরিমাণ সম্পর্কে কোনো দাবি হিসেবে ব্যবহার করছি না।

আশি-নব্বইয়ের তুলনায় আজ শিশু যৌন নির্যাতন বেশি ঘটছে কি না—তুলনাযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি prevalence data ছাড়া আমি সেটি নিশ্চিত করতে পারি না।

বরং তিনটি প্রশ্ন আলাদা করা দরকার:

সহিংসতা কতটা ঘটছে?

তার কতটা দৃশ্যমান হচ্ছে?

আর সেই দৃশ্যমান সহিংসতার কতটা প্রতিদিন আমাদের মানসিক জগতে প্রবেশ করছে?

এই তিনটি এক বিষয় নয়।

পার্থক্যটি না করলে আমরা সহজেই বলে ফেলি:

‘আগে এসব ছিল না।’

হয়তো ছিল।

কিন্তু সংবাদ হয়নি।

রেকর্ড হয়নি।

নাম পায়নি।

অভিযোগ হয়নি।

কেউ শোনেনি।

কেউ বিশ্বাস করেনি।

কেউ share করেনি।

কোনো algorithm বারবার আমাদের চোখের সামনে ফিরিয়ে আনেনি।

তাই আমার কাছে এই লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবাক্যটি হলো:

অতীতের অদৃশ্যতাকে আমরা যেন অতীতের নিরাপত্তা ভেবে না বসি।

দৃশ্যমানতাও সবসময় মুক্তি নয়

আবার visibility নিজেও নির্দোষ নয়।

Social media অনেক ঘটনার নীরবতা ভেঙেছে। কোনো স্থানীয় অভিযোগ এখন জাতীয় আলোচনার বিষয় হতে পারে। প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির মুখে ফেলতে পারে। একজন অভিভাবক একা না থাকার অনুভূতি পেতে পারেন।

কিন্তু একই সঙ্গে আমরা এমন একটি সংস্কৃতিও তৈরি করেছি, যেখানে নির্যাতিত শিশুর ছবি, পরিবারের পরিচয়, ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা—সবই circulation-এর বস্তু হয়ে যেতে পারে।

ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে আমরা শিশুটিকেই spectacle বানিয়ে ফেলতে পারি।

তার trauma হয়ে যায় content।

তার শরীর হয়ে যায় argument।

তার কষ্টের চারপাশে ধর্ম, রাজনীতি, মতাদর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক আত্মরক্ষার যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

আর মাঝখানে শিশুটি আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।

Visibility তাই একই সঙ্গে রক্ষা করতে পারে এবং উন্মুক্তও করে দিতে পারে।

আজকের শিশুর vulnerability এই অর্থে নতুনও।

তার ছবি বেশি।

তার জীবন বেশি documented।

তার ভুল বেশি permanent।

তার humiliation বেশি shareable।

এমনকি তার ওপর ঘটে যাওয়া সহিংসতাও বেশি circulable।

তাহলে আমাদের শৈশব কি সত্যিই বেশি নিরাপদ ছিল?

সম্ভবত এ প্রশ্নের সহজ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নেই।

কিছু অর্থে আজকের শিশু নিঃসন্দেহে বেশি নিরাপদ। পাঁচ বছরের কম বয়সে মৃত্যুর হারের বিপুল পতন তার শক্ত প্রমাণ।

কিছু অর্থে সে আরও বেশি supervised।

কিছু অর্থে নতুনভাবে vulnerable।

অতীতের মধ্যবিত্ত কোনো শিশু হয়তো কম institutional protection পেয়েও বেশি spatial freedom পেয়েছে।

আজকের শিশু হয়তো বাড়ির ভেতর বেশি monitored এবং protected, কিন্তু নিজের পাড়া বা শহরের ওপর তার স্বাধীন অধিকার কমে যেতে পারে।

অতীতের violence হয়তো বেশি invisible থাকতে পেরেছে।

আজকের violence বেশি visible এবং psychologically proximate।

সুতরাং ‘আগে ভালো ছিল’ কিংবা ‘এখন ভালো’—দুটিই খুব সহজ উত্তর।

আমরা তাহলে ওই ছবিগুলোয় কী খুঁজছি?

আবার আশির দশকের সেই AI portrait-গুলোর কাছে ফিরে যাই।

২০২৬ সালের একজন মানুষ নিজের বর্তমান মুখটি artificial intelligence-এর হাতে দিয়ে বলছেন—

আমাকে ১৯৮৬ সালে নিয়ে যাও।

এর মধ্যে অদ্ভুত একটি irony আছে।

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে sophisticated প্রযুক্তিগুলোর একটি ব্যবহার করছি আমরা এমন একটি সময়ের ছবি বানাতে, যাকে আমরা হয়তো প্রযুক্তি কম ছিল বলেই বেশি মানবিক বলে কল্পনা করছি।

আর যারা আশির দশকে জন্মই নেয়নি?

তারা কী স্মরণ করছে?

এটি তখন আর কেবল memory নয়।

এটি imagined memory।

আমি একে বলতে চাই synthetic nostalgia—কৃত্রিমভাবে নির্মিত অতীতের জন্য বাস্তব আবেগ।

শব্দবন্ধটি এখানে আমার একটি বিশ্লেষণী প্রস্তাব।

মানুষ শুধু হারানো অতীতকে মিস করে না।

কখনো কখনো সে এমন একটি অতীতও তৈরি করে, যার প্রয়োজন তার বর্তমানের কারণে।

আর এই জায়গাতেই আশির দশকের ছবিগুলো আমার কাছে সামাজিকভাবে আকর্ষণীয়।

আমরা সম্ভবত আশির দশক ফিরে চাইছি না।

আমরা চাইছি একটি বোধগম্য সমাজ।

যেখানে সব মানুষ ভালো—এমন কোনো কাল্পনিক স্বর্গ নয়।

বরং এমন একটি social world, যেটি অন্তত পড়া যায় বলে মনে হয়।

কাকে বিশ্বাস করা যায়।

বিপদ কোথা থেকে আসতে পারে।

শিশুটি কোথায় আছে।

পাশের মানুষটি কে।

বিপদে কাকে ডাকলে কেউ আসবে।

এই আকাঙ্ক্ষার মধ্যে তাই শুধু nostalgia নেই।

আছে social trust হারানোর ভয়।

অতীতে ফেরা নয়

তবে নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষা যদি আমাদের এমন একটি অতীত বানাতে শেখায় যেখানে শিশুশ্রম ছিল না, বাল্যবিয়ে ছিল না, শিশুদের মারধর করা হতো না, মেয়েদের স্বাধীনতা সীমিত ছিল না, যৌন নির্যাতন ছিল না—তাহলে nostalgia আর স্মৃতির কাজ করবে না।

সেটি ইতিহাস ঢাকার কাজ করবে।

বরং অতীতের দিকে অন্যভাবে তাকানো সম্ভব।

সেই সময়ের community, প্রতিবেশ, social familiarity, অবসর, খেলার public space, মানুষের ওপর নির্ভর করার ক্ষমতা—যা সত্যিই মূল্যবান ছিল, তা নতুন করে তৈরি করা।

আর একই সঙ্গে সেই অতীতের নীরবতা, বয়সভিত্তিক কর্তৃত্ব, লিঙ্গবৈষম্য, মারধর এবং শিশুর কণ্ঠকে অগ্রাহ্য করার সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করা।

কারণ একটি শিশুর জন্য নিরাপদ পৃথিবী এমন পৃথিবী নয় যেখানে তাকে নিরাপদ রাখার জন্য সারাক্ষণ বন্দী করে রাখতে হয়।

নিরাপদ সমাজে সে বাইরে যেতে পারে।

খেলতে পারে।

ভুল করতে পারে।

নিজের শরীর সম্পর্কে ‘না’ বলতে পারে।

কোনো বড় মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারে।

কাঁদতে পারে।

চুপ হয়ে গেলে কেউ খেয়াল করে।

বললে কেউ শোনে।

আর কোনো পরিবারের সম্মান, কোনো শিক্ষকের কর্তৃত্ব, কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, কোনো স্কুলের reputation—একটি শিশুর শরীর ও মর্যাদার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে না।

এই কারণেই আশির দশকের AI ছবিগুলো আমাকে শেষ পর্যন্ত আশির দশকের চেয়ে ২০২৬ সালের বাংলাদেশ নিয়েই বেশি ভাবায়।

আমাদের চারপাশে অভাবনীয় প্রযুক্তি।

অভাবনীয় যোগাযোগ।

অভাবনীয় নজরদারি।

কিন্তু একই সঙ্গে হাতের ছোট্ট screen দিয়ে পৃথিবীর সহিংসতা প্রতিদিন এত কাছে এসে বসে যে ফিকে আলোয় তৈরি একটি কাল্পনিক পুরোনো ছবি কয়েক মুহূর্তের জন্য আমাদের স্বস্তি দেয়।

সেখানে আলো নরম।

সময় ধীর।

মানুষ পরিচিত।

পৃথিবীটাকে বোঝা যায় বলে মনে হয়।

কিন্তু আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ সেই ছবির মধ্যে নেই।

আমাদের কাজ আশির দশকে ফিরে যাওয়া নয়।

আমাদের কাজ এমন একটি সমাজ তৈরি করা যেখানে আধুনিক চিকিৎসার নিরাপত্তা থাকবে, কিন্তু শিশুর মাঠটিও থাকবে; প্রযুক্তি থাকবে, কিন্তু মানুষও থাকবে; visibility থাকবে, কিন্তু dignity-ও থাকবে; প্রতিষ্ঠান থাকবে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের চেয়ে শিশুর কণ্ঠ বড় হবে।

এবং নিজেদের একটি কঠিন প্রশ্ন করা দরকার:

আমরা কি এমন একটি সমাজ, যারা শিশুদের খুব ভালোবাসে—কিন্তু শৈশবকে যথেষ্ট ভালোবাসে না?

সন্তানকে ‘মানুষ’ বানানোর তাড়া আমাদের প্রচণ্ড।

তাকে ভালো ছাত্র বানাতে চাই।

ভালো নাগরিক।

ভালো ছেলে।

ভালো মেয়ে।

ভালো মুসলমান।

সফল মানুষ।

কিন্তু এত কিছুর আগে তাকে একটি শিশু হয়ে থাকার অধিকার দিতে আমরা কতটা প্রস্তুত?

আমাদের আরও কঠিন একটি প্রশ্ন করা দরকার: আমরা কি শিশুদের জন্য ক্রমশ একটি dystopian সমাজ তৈরি করছি না?

এমন একটি সমাজ, যেখানে শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার প্রদর্শন বিপুল, কিন্তু শিশুর নিজের কণ্ঠের মূল্য সামান্য। আমরা সন্তানের জন্মদিনে ছবি দিই, তার সাফল্যে গর্ব করি, তাকে ‘আমার পৃথিবী’ বলি; অথচ সেই শিশুটির শরীর, ভয়, গোপনীয়তা, অসম্মতি, ক্লান্তি কিংবা নিজের মতো করে বেঁচে থাকার অধিকারকে কতটা স্বীকার করি?

এই সমাজের সবচেয়ে অস্বস্তিকর বৈপরীত্য সম্ভবত এখানেই।

আমরা শিশুদের ভালোবাসার কথা বলতে খুব পছন্দ করি; কিন্তু শৈশবকে বাঁচিয়ে রাখতে কতটা প্রস্তুত?

আমরা শিশুকে খুব দ্রুত বড় করতে চাই। তাকে ভালো ছাত্র বানাতে চাই, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দিতে চাই, শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে চাই, ধর্মীয় বা সামাজিক আদর্শের সঙ্গে মিলিয়ে গড়ে তুলতে চাই, পরিবারের সম্মান রক্ষা করতে শেখাতে চাই। কিন্তু এই সমস্ত ‘মানুষ বানানোর’ তাড়ার মধ্যে মানুষ হওয়ার আগের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টিই—শৈশব—আমরা কি দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছি না?

একটি শিশুর দিন ভরে দিই স্কুল, কোচিং, পরীক্ষা, স্ক্রিন, নির্দেশ আর নজরদারিতে। তার শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করি। তার কথাকে অনেক সময় অপরিণত বলে উড়িয়ে দিই। বড় মানুষের সামনে তাকে নীরব থাকতে শেখাই। প্রতিবাদ করলে বেয়াদবি বলি। মারধরকে শাসন বলি। অপমানকে সংশোধন বলি। মেয়েশিশুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করি নিরাপত্তার নামে। আর কোনো শিশু কোনো শক্তিশালী প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে কখনো কখনো প্রথম প্রশ্নটি শিশুটিকে নয়—তার চরিত্র, পরিবার অথবা অভিযোগের উদ্দেশ্যকে ঘিরে ওঠে।

এ কারণেই আমি “শিশু-প্রতিপক্ষ সমাজ” কথাটি ব্যবহার করতে চাই।

এটি এমন সমাজ নয়, যেখানে মা-বাবা সন্তানকে ভালোবাসেন না। বরং আরও জটিল এবং সম্ভবত আরও ভয়ংকর একটি সমাজ—যেখানে ভালোবাসা আছে, কিন্তু সেই ভালোবাসার ভেতরেই নিয়ন্ত্রণ আছে; যত্ন আছে, কিন্তু agency নেই; সুরক্ষার ভাষা আছে, কিন্তু স্বাধীনতা নেই; শিশুকে নিয়ে আবেগ আছে, কিন্তু শৈশবের প্রতি শ্রদ্ধা নেই।

আর যদি একটি সমাজে শিশু পরিবারে সহিংসতার মুখোমুখি হয়, প্রতিষ্ঠানে নির্যাতিত হতে পারে, রাস্তায় নিরাপত্তাহীন থাকে, অনলাইনে নতুন ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, অথচ এসব থেকে তাকে রক্ষা করার নামে ক্রমেই তার পৃথিবীকে আরও ছোট করে দেওয়া হয়—তাহলে প্রশ্ন করতেই হয়: আমরা কি নিরাপদ শৈশব তৈরি করছি, নাকি নিরাপত্তার নামে একটি শিশু-দুঃস্বপ্ন নির্মাণ করছি?

Dystopia সবসময় ভবিষ্যতের কোনো ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর নয়।

একটি শিশুর কাছে dystopia এমন একটি ঘরও হতে পারে যেখানে সে ‘না’ বলতে পারে না। এমন একটি স্কুল যেখানে অপমান স্বাভাবিক। এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে অভিযোগ করার চেয়ে চুপ থাকা নিরাপদ। এমন একটি শহর যেখানে তার খেলার জায়গা নেই। এমন একটি ডিজিটাল পৃথিবী যেখানে তার জীবন জন্মের পর থেকেই ছবি, তথ্য ও নজরদারির মধ্যে জমা হতে থাকে।

সবচেয়ে ভয়ংকর হলো, এই সমাজ একই সঙ্গে নিজেকে অত্যন্ত শিশুবান্ধব বলে কল্পনা করতে পারে।

আমরা শিশু দিবস পালন করি। শিশুদের নিয়ে আবেগী বিজ্ঞাপন বানাই। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তৃতা দিই। সন্তানের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করার গল্প বলি।

কিন্তু একটি সভ্যতাকে শিশুদের প্রতি তার ঘোষিত ভালোবাসা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়।

বিচার করা উচিত—একটি শিশু সেখানে কতটা নির্ভয়ে শিশু থাকতে পারে।

সে খেলতে পারে কি না।

ভুল করতে পারে কি না।

নিজের শরীরের ওপর অধিকার আছে কি না।

‘না’ বলতে পারে কি না।

ভয় পেলে বলতে পারে কি না।

বললে বিশ্বাস করা হয় কি না।

চুপ হয়ে গেলে কেউ খেয়াল করে কি না।

কোনো প্রাপ্তবয়স্কের সম্মান, কোনো পরিবারের মান-মর্যাদা, কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি কিংবা কোনো স্কুলের reputation-এর চেয়ে তার নিরাপত্তা বড় কি না।

হয়তো আমাদের সবচেয়ে বড় আত্মপ্রবঞ্চনা এখানেই:

আমরা নিজেদের এমন একটি সমাজ হিসেবে দেখতে ভালোবাসি, যারা শিশুদের ভীষণ ভালোবাসে। কিন্তু একই সমাজ অবলীলায় তাদের শৈশবকে সংকুচিত করে, নিয়ন্ত্রণ করে, শাসন করে, ভয় দেখায়, কখনো আহত করে—এবং তারপরও নিজের ভালোবাসা নিয়ে সন্দেহ করে না।

এই আত্মবিস্মৃত ভালোবাসাই সম্ভবত আমাদের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—

আমরা কি সত্যিই শিশুদের ভালোবাসি, নাকি আমরা শুধু সেই শিশুকেই ভালোবাসি, যে আমাদের কথা শোনে, আমাদের প্রত্যাশামতো বড় হয় এবং আমাদের তৈরি পৃথিবীকে প্রশ্ন করে না?

আমাদের শৈশব সত্যিই বেশি নিরাপদ ছিল কি না—আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না। ইতিহাসও এত সরল উত্তর দেয় না।

কিন্তু আশি-নব্বইয়ের প্রতি এই নতুন nostalgia আমাদের সামনে আরও জরুরি একটি প্রশ্ন রেখে যায়:

এত উন্নয়ন, এত প্রযুক্তি, এত শিক্ষা, এত যোগাযোগের পরও আমরা কি আমাদের শিশুদের এমন একটি পৃথিবী দিতে পেরেছি, যার দিকে তাকিয়ে নিশ্চিন্তে বলতে পারি—যাও, এই পৃথিবীটা তোমারও?

হয়তো আমাদের মন কেমন করে আশির দশকের জন্য নয়।

মন কেমন করে সেই নিশ্চয়তার জন্য।

আর সেই নিশ্চয়তা যদি কোনো দিন আমাদের কারও শৈশবে সত্যিই থেকেও থাকে, আমাদের কাজ তাকে শুধু স্মরণ করা নয়।

আমাদের কাজ প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর জন্য সেটি তৈরি করা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *