| |

রাষ্ট্রের ভাষ্কর্য যে তুমি দেখতে পাইলা না

রাষ্ট্রের ভাষ্কর্য | একটি রাজনৈতিক কবিতা

রাষ্ট্র-সে খুব আন্তরিক
তোমারে কনেভেনিয়েন্ট ফিল দেয়
যেনবা মায়ের পেটের ভাই, বংশের বড়
বলে জ্যাম কমাবে
রক্তসঞ্চালণ হবে দেহে
মুখটা হবে সিঙ্গাপুরের মেকাপে
তুমি কি আর না বলতে পারো?

সেই যে ছোটবেলা থেকে সরকার সরকার কর
সেই সরকার যে তোমার শহরে আর গ্রামে ঘুরেঘুরে শল্য চিকিৎসা করে
তোমার ভালো লাগে না বল?
ইয়া বড় বড় রাস্তা, ব্রীজ কালভার্ট, ফ্লাই ওভার!
তোমার এলাকায় যে এত বড় চিকিৎসক আসলেন
সেটার ঘোষনা কি শুনতে পাও না?
“অদ্য বেলা বারোটা থেকে তিনটা পর্যন্ত আজ ডাঃ থাকিবেন অমুক জায়গায়
ফ্রী ফ্রী ফ্রী! শল্য সপ্তাহ ”
মন খুশি হয়ে ওঠে না?
গর্ব করে বলোনা, মিরপুর আর উত্তরা কিন্ত আর আগের মত নাই
আর পাড়ার, মহল্লার, প্রতিবাদের দেহগুলা তুলে দাও হাসতে খুশিতে
শতহোক চিকিৎসকের কাছে লুকোনোর কিছু নাই

রাষ্ট্র; তিনি কি কেবলই চিকিৎসক; নাকি ভাষ্করও বটে ?
তোমার মহাখালি, তোমার গুলিস্তান, তোমার অলিগলি-র শিরা উপশিরা কাটতে কাটতে
তিনি যে জোড়া লাগান, নতুন আকার দেন তিনি তো ভাষ্কর
তোমার শাহবাগ, তোমার রাজুর উপর দিয়ে তিনি যে তৈরি করেন লম্বা ভাষ্কর্য
তার এসথেটিকে মাথা নুয়ে আসে না বল?
তুমি কি কখনো বলেছো, এত এত পিলারে আমি আর আকাশ দেখতে পারি না
আমার চোখের সীমা ছোট হয়ে এসেছে
তোমার কি আছে পথবিজ্ঞানের জ্ঞান?

তুমি কবে দেবে তাকে শিল্পির সম্মান?


দেখো, কি নিদারূণ এই উড়াল শিল্প
জীবন্ত রেলের কনভেনিয়েন্টে 
তুমি টুক করে নেমে পড়বে, একাদেমিতে
মিরপুর ১২ থেকে সাঁইসাঁই
আর নীচে পড়ে থাকবে রাজু, টিএসসি
সেখানে রবীন্দ্রনাথের মুখে টেপ মেরে 
রাজু-র প্রতিবেশী বানিয়ে যতই কর বার্তালাপ
এত সুন্দর সমান্তরাল ভাষ্কর্যের নীচে 
ক্ষীণ হয়ে আসবে তোমার চিৎকার

তোমার কি আর কখনোই মনে হবে আটকে ফেলি শাহবাগ?
আর কখনোই কি বানাতে পারবে মস্ত ফেস্টুন, আকাশ সমান
জাহানারা ইমাম?
মাথার উপরে পিলার
পিলারের উপরে ছায়া
সেই ছায়ার উপরে রেল
তোমার তো দৃষ্টি বন্ধ
আকাশ দেখার সাহস হবে আর?
তোমার মাথা-র অনেক উপরে রাষ্ট্রের ভাষ্কর্য করবে সাঁই সাঁই 
পিওর এসথেটিক, কনভেনিয়েন্ট
তোমার মনে হবে
থাক এবেলা বাড়ী ফিরে যাই

রাষ্ট্রকে তুমি সরকার বল শুধু
উনার ভাষ্কর্য তুমি দেখতে পাইলানা
আফসোস!

শরৎ চৌধুরী, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *