১৮৮৯ সালে মসজিদুল হারামে কাবাকে ঘিরে হজযাত্রীদের জামাতে সালাতের ঐতিহাসিক আলোকচিত্র
| |

ক্যামেরা কি ‘মুসাওয়ির’?

ইসলামি ঐতিহ্যে ছবি, স্মৃতি ও আলোকচিত্রের নৈতিকতা

বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস উপলক্ষে

১৮৩৯ সালের ১৯ আগস্ট প্যারিসের Académie des Sciences-এ দাগেরিওটাইপ প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৃথিবীর সামনে উন্মোচিত হয়েছিল। আলোকে স্থায়ী দৃশ্যে ধরে রাখার এই প্রযুক্তি মানুষের দেখার, স্মরণ করার এবং ইতিহাস সংরক্ষণের পদ্ধতিকে আমূল বদলে দেয়। ১৯ আগস্টকে আলোকচিত্রের ইতিহাসে স্মরণ করার পেছনে এই ঘটনাটিই প্রধান ঐতিহাসিক ভিত্তি।

কিন্তু ক্যামেরা যখন মুসলিম সমাজে পৌঁছাল, তখন সঙ্গে শুধু একটি নতুন যন্ত্র আসেনি। ফিরে এসেছিল অনেক পুরোনো একটি প্রশ্ন—মানুষ কি জীবনের প্রতিরূপ নির্মাণ করতে পারে?

আজও প্রশ্নটি আমাদের ছেড়ে যায়নি; শুধু প্রযুক্তি বদলেছে। একসময় আলোচনার বিষয় ছিল মূর্তি ও চিত্রকর্ম। পরে এলো photography। এখন আমাদের সামনে smartphone, CCTV, drone, facial recognition এবং generative AI। ফলে বহুল উচ্চারিত প্রশ্ন—“ইসলামে ছবি তোলা হারাম কি হালাল?”—আসলে আরও দীর্ঘ ও জটিল একটি ইতিহাসকে ছোট করে ফেলে।

এই প্রবন্ধের যুক্তি তাই একটু অন্যরকম: ইসলামি ঐতিহ্যের সঙ্গে ছবির সম্পর্ক নিষেধের সরল ইতিহাস নয়। এটি সৃষ্টি ও অনুকরণ, উপাসনা ও প্রতিরূপ, স্মৃতি ও ক্ষমতা, এবং শেষ পর্যন্ত একজন মানুষকে অন্য একজন মানুষ কীভাবে দৃশ্যমান করে—সেই নৈতিকতার ইতিহাসও।

Image: 1889 photograph of people praying around the Ka‘bah at al-Masjid al-Haram
Photographer: attributed to al-Sayyid ‘Abd al-Ghaffār, Physician of Mecca
Published: Leiden: E. J. Brill, 1889
Repository: Library of Congress

Photograph attributed to al-Sayyid ‘Abd al-Ghaffār

Library of Congress-এর catalogue অনুযায়ী ছবিটিতে হজের সময় কাবাকে ঘিরে সালাতরত মানুষ দেখা যায়। Catalogue-এ photographer হিসেবে ‘Abd al-Ghaffār-কে উল্লেখ করা হয়েছে এবং rights advisory হলো “No known restrictions on publication.”

হজের সময় মসজিদুল হারামে কাবাকে ঘিরে জামাতে সালাত, মক্কা, ১৮৮৯। আলোকচিত্রটি মক্কার চিকিৎসক ও প্রাথমিক যুগের আলোকচিত্রী আল-সাইয়্যিদ ‘আবদ আল-গাফফারের বলে চিহ্নিত। Source: Library of Congress.

Short credit line:

Photograph attributed to al-Sayyid ‘Abd al-Ghaffār, 1889. Library of Congress, Prints and Photographs Division. LC-DIG-ppmsca-35470.

মূর্তি, প্রতিরূপ এবং ‘মুসাওয়ির’

কোরআনে ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতা ও সম্প্রদায়কে প্রশ্ন করেন, তারা কেন সেই তামাথিল—মূর্তি বা প্রতিরূপগুলোর প্রতি এত নিবেদিত। পরের আয়াতেই তাঁর সম্প্রদায় জানায় যে তারা পূর্বপুরুষদের এগুলোর উপাসনা করতে দেখেছে। অর্থাৎ এখানে সমস্যাটি শুধু একটি বস্তু বা দৃশ্যমান রূপের অস্তিত্ব নয়; তার সঙ্গে মানুষের ধর্মীয় নিবেদন ও উপাসনার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে কোরআনে আল্লাহর একটি নাম আল-মুসাওয়ির—রূপদাতা বা আকৃতি প্রদানকারী। সুরা আল-হাশরের ৫৯:২৪ আয়াতে আল-খালিক, আল-বারি এবং আল-মুসাওয়ির পাশাপাশি এসেছে।

মানুষ ও প্রাণীর figurative representation নিয়ে কঠোরতর ভাষা স্পষ্ট হয়ে ওঠে হাদিসের ঐতিহ্যে। সহিহ বুখারির একটি বর্ণনায় আয়েশা (রা.)-এর ছবিযুক্ত পর্দার প্রসঙ্গে এমন image-maker-দের সতর্ক করা হয়েছে যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুরূপ তৈরি করার চেষ্টা করে। আরেকটি বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি একটি ছবি তৈরি করবে তাকে কিয়ামতের দিন তাতে প্রাণ দিতে বলা হবে, অথচ সে তা করতে পারবে না।

এই বর্ণনাগুলো থেকেই surah, taswir এবং musawwir শব্দগুলো পরবর্তী ইসলামি আইন ও নৈতিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। Metropolitan Museum of Art-এর ইসলামি শিল্পবিষয়ক আলোচনাও উল্লেখ করে যে জীবন্ত সত্তার প্রতিরূপ নিয়ে সবচেয়ে কঠোর বক্তব্যগুলো মূলত হাদিসের ঐতিহ্যে পাওয়া যায়।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন থেকে যায়।

সপ্তম শতকের মানুষ যখন taswir নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন photography বলে কোনো প্রযুক্তি ছিল না। একজন শিল্পী হাতে একটি মানুষের মুখ আঁকছেন, একজন ভাস্কর পাথর কেটে মানুষের আকৃতি তৈরি করছেন এবং একটি optical-mechanical device বাস্তব জগত থেকে প্রতিফলিত আলোকে photosensitive surface-এ ধরে রাখছে—এই তিনটি কাজকে একইভাবে বোঝা হবে কি না, সে প্রশ্ন তখন ওঠেনি।

ক্যামেরা তাই শুধু নতুন ধরনের ছবি তৈরি করেনি; পুরোনো ধর্মীয় শব্দের সীমানাকেও নতুন করে পরীক্ষা করেছে।

ইসলামি সভ্যতা কি সত্যিই ছবিবিহীন ছিল?

“ইসলামি শিল্পে মানুষের ছবি নেই”—এমন একটি জনপ্রিয় ধারণা আছে। ইতিহাস অবশ্য আরও জটিল।

Metropolitan Museum-এর Islamic Art বিভাগ দেখিয়েছে, ধর্মীয় শিল্প ও মসজিদকেন্দ্রিক স্থাপত্যে human এবং animal representation-এর বিরুদ্ধে প্রবল সংযম থাকলেও secular Islamic art-এ figurative representation বহু শতক ধরে বিকশিত হয়েছে। পাণ্ডুলিপি, textile, ceramics, metalwork এবং প্রাসাদসজ্জায় মানুষ ও প্রাণীর প্রতিরূপ বহু মুসলিম সংস্কৃতিতে দেখা যায়। Met এই ধারণাটিকেই ভুল বলে চিহ্নিত করে যে Islamic art-এ figural representation কখনোই অনুমোদিত ছিল না।

QUSAYR ‘AMRA FRESCO — ইসলামি শিল্পে figurative image

জর্ডানের Qusayr ‘Amra-র অষ্টম শতকের Umayyad fresco। ধর্মীয় স্থাপত্যের বাইরের ইসলামি পরিসরে figurative representation-এর গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উদাহরণ। Photograph: High Contrast / Wikimedia Commons.

Image: Interior frescoes of Qusayr ‘Amra, Jordan
Period represented: early eighth-century Umayyad art
Modern photograph: High Contrast, 2009
License: Creative Commons Attribution 3.0 Germany

UNESCO Qusayr ‘Amra-র reception hall এবং hammam-এর figurative murals-কে early eighth-century Umayyad secular art-এর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করে।

High Contrast, “Qasr Amra – interior –06,” 2009. Wikimedia Commons. CC BY 3.0 DE.

উমাইয়া যুগের Qusayr ‘Amra-র fresco-গুলোও এই ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সেখানে বিস্তৃত মানবমূর্তি ও figurative painting আবিষ্কার early Islamic period সম্পর্কে একসময়কার সরল aniconic ধারণাকে বদলে দিতে সাহায্য করেছিল।

তার মানে এই নয় যে ইসলামি ঐতিহ্যে ছবির বিরুদ্ধে আপত্তি ছিল না। বরং ইতিহাস আমাদের আরও সূক্ষ্ম একটি distinction দেখতে শেখায়—image ও idol, representation ও worship, religious space ও secular space সবসময় এক জিনিস হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ধর্মীয় tradition বাস্তব জীবনে শুধু নিষেধের একটি তালিকা হিসেবে কাজ করে না। নতুন প্রযুক্তি, নতুন সামাজিক প্রয়োজন এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হলে মানুষ পুরোনো নৈতিক ভাষার অর্থও পুনর্বিবেচনা করে।

Photography সেই প্রক্রিয়ার অসাধারণ উদাহরণ।

ক্যামেরা কি ‘তৈরি’ করে, নাকি ‘ধরে রাখে’?

আধুনিক ইসলামি photography debate-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রশ্ন সম্ভবত এখানেই।

মিসরের বিশিষ্ট হানাফি আলেম এবং সাবেক মুফতি শায়খ মুহাম্মদ বখিত আল-মুতিই photography নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ লেখেন—Al-Jawāb al-Shāfī fī Ibāḥat al-Taṣwīr al-Fūtūghrāfī। Egypt’s Dar al-Ifta-র তাঁর সরকারি জীবনীতে গ্রন্থটিকে তাঁর রচনাসমূহের মধ্যে স্পষ্টভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এই ধারার reasoning-এর কেন্দ্রে ছিল একটি মৌলিক distinction: photographer কি এমন একটি জীবন্ত রূপ উদ্ভাবন করছেন যা আগে ছিল না, নাকি সামনে থাকা বাস্তবতার optical trace ধারণ করছেন?

Egypt’s Dar al-Ifta-এর সমকালীন একটি ব্যাখ্যায় camera photography-কে sculpture বা হাতে নতুন figure নির্মাণের সঙ্গে এক করা হয়নি। সেখানে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে lens-এর মাধ্যমে photographer প্রকৃতিতে বিদ্যমান জিনিসকে ধারণ করছেন; তাই photographic taswir শব্দটি classical sculpture/image-making-এর একই অর্থে ব্যবহার করা আবশ্যক নয়। Dar al-Ifta একই সঙ্গে এ বিষয়ে scholarly disagreement থাকার কথাও স্বীকার করে।

অন্যদিকে আরেকটি প্রভাবশালী ইসলামি অবস্থান এই পার্থক্য গ্রহণ করেনি। সৌদি আলেম শায়খ আবদুল আজিজ ইবন বাজের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফতোয়ায় photography-সহ জীবন্ত সত্তার ছবি তৈরিকে নিষেধের আওতায় রাখা হয়েছে। সেখানে হাতে আঁকা এবং photographic image—দুটোকেই taswir-এর বিস্তৃত শ্রেণির মধ্যে বিবেচনা করা হয়েছে।

ফলে সততার সঙ্গে বলতে হয়: photography নিয়ে মুসলিম আলেমদের মধ্যে একটিমাত্র সর্বসম্মত ব্যাখ্যা নেই।

এবং এই মতভেদটিই বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিতর্কটি শেষ পর্যন্ত camera নিয়ে যতটা, তার চেয়ে বেশি “representation বলতে আমরা কী বুঝি?”—এই প্রশ্ন নিয়ে।

মুসলমান যখন ক্যামেরার পেছনে দাঁড়াল

ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্কের সমান্তরালেই মুসলিম সমাজ photography-কে দ্রুত ব্যবহার করতে শুরু করে।

উসমানি সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ ছিলেন photography-র উৎসাহী সংগ্রাহক ও পৃষ্ঠপোষক। Library of Congress-এ সংরক্ষিত তাঁর বিশাল collection-এ ৫১টি large-format album-এ ১,৮১৯টি photograph রয়েছে, আনুমানিক ১৮৮০ থেকে ১৮৯৩ সালের মধ্যে তোলা। সেখানে স্কুল ও ছাত্রছাত্রী, হাসপাতাল, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, fire brigade, factory, mine, harbour, সরকারি ভবন, মসজিদ, monument ও নগরদৃশ্যের বিস্তৃত documentation আছে।

Tuberculosis ward of the Hasköy Hospital for Women, Constantinople

Image: Tuberculosis ward of the Hasköy Hospital for Women, Constantinople
Photographer: Abdullah Frères
Date: between 1880 and 1893
Collection: Abdul Hamid II Collection, Library of Congress

Library of Congress ছবিটিকে Abdullah Frères-এর albumen print হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এটিকে Sultan Abdul Hamid II Collection-এর অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করেছে। Rights advisory: “No known restrictions on publication.”

WordPress placement:
“মুসলমান যখন ক্যামেরার পেছনে দাঁড়াল” heading-এর সেই paragraph-এর পরে যেখানে Ottoman school, hospital, military ও modern institutions-এর photographic documentation নিয়ে আলোচনা করেছেন।

Caption:

ইস্তাম্বুলের Hasköy Hospital for Women-এর tuberculosis ward, আনুমানিক ১৮৮০–১৮৯৩। Sultan Abdul Hamid II-এর photographic collection রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান ও Ottoman modernity-কে দৃশ্যমান করার একটি বিস্তৃত প্রকল্পের অংশ ছিল। Photograph: Abdullah Frères. Library of Congress.

Credit line:

Abdullah Frères, Hasköy Hospital for Women, Constantinople, c. 1880–1893. Abdul Hamid II Collection, Library of Congress.

Library of Congress-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আবদুল হামিদ photography-র সক্রিয় promoter ছিলেন এবং collection-টি সম্ভবত পশ্চিমা দর্শকের সামনে তাঁর সাম্রাজ্যের একটি portrait হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। ১৮৯৩ বা ১৮৯৪ সালে তিনি এই photographic survey-এর একটি copy Library of Congress-কে উপহার দেন।

এখানে camera শুধু স্মৃতি ধরে রাখছে না। রাষ্ট্র নিজের সম্পর্কে একটি visual argument তৈরি করছে।

স্কুল দেখানো হচ্ছে—আমরা শিক্ষিত হচ্ছি। হাসপাতাল দেখানো হচ্ছে—আমাদের আধুনিক প্রতিষ্ঠান আছে। সামরিক বাহিনী, industry এবং urban infrastructure দেখানো হচ্ছে—আমরাও modern state।

অর্থাৎ photography একই সঙ্গে document এবং self-representation; archive এবং politics

এই ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেয়: মুসলিম সমাজ photography-কে শুধু বাইরের কোনো “পশ্চিমা প্রযুক্তি” হিসেবে গ্রহণ করেনি; খুব দ্রুত তাকে নিজেদের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক ভাষার অংশও করেছে।

মক্কার মানুষ যখন মক্কাকে photograph করলেন

আরও আকর্ষণীয় একটি ইতিহাস পাওয়া যায় মক্কায়।

আল-সাইয়্যিদ ‘আবদ আল-গাফফার—একজন মক্কাবাসী চিকিৎসক—১৮৮০-এর দশকে camera ব্যবহার শুরু করেন। British Library-এর curator Anna Canby Monk-এর Qatar Digital Library-তে প্রকাশিত archival গবেষণা তাঁকে প্রথম পরিচিত Meccan photographer হিসেবে উল্লেখ করে।

১৮৮৬ থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে তিনি মক্কা, এর অধিবাসী এবং পবিত্র নগরের জীবন নিয়ে ২৫০টির বেশি photograph তোলেন। একই সূত্র অনুযায়ী, তাঁর ছবিগুলোর মধ্যে হজে অংশগ্রহণকারী pilgrims-এর প্রথমদিককার photographic records-ও রয়েছে।

এখানে একটি গভীর historical irony আছে।

যে প্রযুক্তিকে ঘিরে মুসলিম সমাজে প্রশ্ন উঠেছিল—এটি কি নিষিদ্ধ taswir?—সেই প্রযুক্তিই অল্প কয়েক দশকের মধ্যে মক্কা, হজ এবং মুসলিম জীবনের অমূল্য visual memory হয়ে উঠল।

এই মুহূর্তে camera আর কেবল “ছবি তৈরির যন্ত্র” নয়।

সে হয়ে ওঠে স্মৃতির বাহক।

কিন্তু photograph কখনো নির্দোষ নয়

তবে এখানেই photography-র আরেকটি দিক সামনে আসে।

Camera যা দেখে, সবকিছু photograph হয় না। Photographer নির্বাচন করেন।

তিনি ঠিক করেন কোথায় দাঁড়াবেন। কোন মুহূর্তে shutter চাপবেন। কাকে frame-এর ভেতর রাখবেন। কাকে বাদ দেবেন। একজন মানুষকে dignified দেখাবেন, নাকি helpless। একটি ঘটনাকে tragedy হিসেবে দেখাবেন, resistance হিসেবে দেখাবেন, নাকি spectacle বানাবেন।

Photography তাই কেবল reality-এর copy নয়; এটি reality-কে select, frame এবং circulate করারও পদ্ধতি।

Anthropology-র ইতিহাসে এই ব্যাপারটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। Elizabeth Edwards সম্পাদিত Anthropology and Photography, 1860–1920 দেখায় যে ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের শুরুর anthropology-তে photography ethnographic data, anthropometry এবং মানুষের শ্রেণিবিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়েছিল।

Colonial photography-ও একইভাবে নিরপেক্ষ ছিল না। Middle East ও India-কে নিয়ে ঊনবিংশ শতকের photographic production ইউরোপীয় “Orient”-এর ধারণা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল—Getty Research Institute-এর Orientalist Photography project এবং Ali Behdad ও Luke Gartlan সম্পাদিত Photography’s Orientalism এই সম্পর্কটিকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেছে।

অর্থাৎ camera কখনো স্মৃতি, কখনো evidence, কখনো knowledge; আবার কখনো classification, surveillance এবং domination-এরও হাতিয়ার।

এ কারণেই “ছবি তোলা যায় কি না?” প্রশ্নটির পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্ন প্রয়োজন:

ছবিটি কী করছে?

একটি ইসলামি photography ethics কি সম্ভব?

আমার মতে, এখানেই আজকের আলোচনাটি সবচেয়ে জরুরি।

ধরা যাক photography নিজেই কোনো একটি মত অনুযায়ী permissible। তাতেই কি প্রতিটি photograph নৈতিক হয়ে যায়?

অবশ্যই নয়।

ইসলামি নৈতিকতার ভেতর থেকেই এখানে শক্তিশালী কয়েকটি principle পাওয়া যায়। কোরআন মানুষের মৌলিক মর্যাদার কথা বলে—“আদমসন্তানকে মর্যাদা দিয়েছি।”

কোরআন অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান বা tajassus থেকে বিরত থাকতে বলে।

অন্যের গৃহে প্রবেশের আগে permission নেওয়ার যে নীতি সুরা আন-নূরে এসেছে, সেটিও ব্যক্তিগত পরিসর এবং অন্যের সীমার প্রতি সম্মানের একটি বৃহত্তর নৈতিক কাঠামো নির্দেশ করে।

এগুলো photography-র জন্য সরাসরি নাজিল হওয়া বিধান নয়। এখানে আমি একটি নৈতিক প্রয়োগের প্রস্তাব করছি: digital এবং photographic practice-এ মানবমর্যাদা, privacy, consent এবং harm-এর প্রশ্ন ভাবতে এই principle-গুলো ব্যবহার করা যায়।

কারও দুর্ঘটনার পর রক্তাক্ত শরীরের ছবি তুলে Facebook-এ দিয়ে দেওয়া—এটি কেবল “ছবি তোলা জায়েজ কি না” দিয়ে বিচার করলে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

একজন দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করার সময় camera তার মুখের সামনে ধরে রাখা?

একটি মৃতদেহকে viral content বানানো?

একজন শিশুর vulnerable মুহূর্ত তার অনুমতি বোঝার বয়স হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে প্রকাশ করা?

একজন নারী বা পুরুষের ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে record করা?

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এমন মানুষের মুখ প্রকাশ করা, যার কারণে পরে তার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে?

এসব ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন প্রয়োজন:

যার ছবি তুলছি, তার সম্মতি আছে কি?
তার মর্যাদা রক্ষা হচ্ছে কি?
ছবিটি তাকে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে কি?
আমি সাক্ষ্য তৈরি করছি, নাকি humiliation ছড়াচ্ছি?
আমি অন্যায়ের দলিল তৈরি করছি, নাকি অন্যের দুঃখকে নিজের visibility-র সম্পদ বানাচ্ছি?

এই জায়গায় photography একটি বস্তু থেকে relationship-এ পরিণত হয়।

Photographer এবং photographed person-এর মধ্যে একটি নৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়।

আর সম্ভবত এখানেই amanah—দায়িত্ব বা trust—ধারণাটি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

Camera থেকে CCTV: আমরা সবাই photographer, কিন্তু সবাই কি নৈতিক দর্শক?

একসময় photograph তোলার জন্য camera কিনতে হতো, film লাগত, darkroom লাগত, technical skill প্রয়োজন হতো।

আজ প্রায় প্রতিটি smartphone-ই camera।

ফলে মানব ইতিহাসে এমন সময় সম্ভবত আগে ছিল না যখন এত মানুষ একই সঙ্গে photographer এবং photographed subject।

আমরা এখন শুধু ছবি তুলি না; অনবরত ছবি circulate করি।

আর circulation-ই photography-র নৈতিক সমস্যাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আগে একটি photograph হয়তো family album-এ থাকত। এখন একই image কয়েক মিনিটে লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। Context হারাতে পারে। Crop হয়ে নতুন অর্থ পেতে পারে। Meme হতে পারে। Facial recognition system-এ ঢুকতে পারে। রাজনৈতিক propaganda-র অংশ হতে পারে।

এ কারণেই আজ photography ethics শুধু shutter চাপার ethics নয়।

এটি storage, editing, captioning, sharing এবং circulation-এরও ethics।

AI এসে পুরোনো প্রশ্নটিই আবার ফিরিয়ে দিল

Photography নিয়ে permissive ইসলামি reasoning-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল—camera সামনে থাকা বাস্তবতাকে ধারণ করছে; photographer নতুন কোনো living form সৃষ্টি করছেন না।

কিন্তু generative AI সেই distinction-কে আবার জটিল করে দিয়েছে।

একটি AI system এখন এমন একজন মানুষের photorealistic মুখ তৈরি করতে পারে, যার বাস্তবে কখনো অস্তিত্বই ছিল না।

এমন একটি যুদ্ধের photograph তৈরি করতে পারে, যে যুদ্ধ সেই জায়গায় কখনো হয়নি।

একজন বাস্তব ব্যক্তির এমন একটি দৃশ্য বানাতে পারে যেখানে তিনি কখনো ছিলেন না।

একজন মৃত মানুষের মুখকে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে পারে যেন তিনি নতুন করে কথা বলছেন।

এখানে আর camera-র সামনে কোনো প্রয়োজনীয় real-world referent নেই।

ফলে প্রায় দেড় শতাব্দী আগে photography নিয়ে যে প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছিল—“যন্ত্র কি সৃষ্টি করছে, নাকি বাস্তবতাকে ধারণ করছে?”—generative AI আমাদের আবার সেই প্রশ্নের কাছেই ফিরিয়ে এনেছে।

শুধু এবার প্রশ্নটি ধর্মীয় jurisprudence-এর মধ্যে সীমিত নয়।

এটি সত্য-মিথ্যা, evidence, journalism, politics, reputation এবং মানুষের পরিচয়ের প্রশ্ন।

অদ্ভুতভাবে, taswir-এর পুরোনো debate তাই AI যুগে আবার নতুন intellectual relevance পেয়েছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি ছবির নয়, মানুষের

World Photography Day-তে photography উদ্‌যাপনের অনেক কারণ আছে।

Camera সময়কে ধরে রাখে।

হারিয়ে যাওয়া মানুষকে স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনে।

রাষ্ট্রের অপরাধের সাক্ষ্য সংরক্ষণ করে।

যুদ্ধের নিষ্ঠুরতা পৃথিবীর সামনে হাজির করে।

পরিবারের ইতিহাস ধরে রাখে।

অদৃশ্য মানুষকে দৃশ্যমান করে।

কিন্তু একই camera মানুষকে voyeuristic spectacle-এ পরিণত করতে পারে। তাকে শ্রেণিবদ্ধ করতে পারে। নজরদারি করতে পারে। অসম্মান করতে পারে। মিথ্যা তৈরি করতে পারে।

তাই ইসলামি ঐতিহ্যে ছবির দীর্ঘ বিতর্ককে শুধু “হারাম বনাম হালাল” প্রশ্নে আটকে রাখলে আমরা সম্ভবত এই ঐতিহ্যের সবচেয়ে সমকালীন নৈতিক সম্ভাবনাটিই হারিয়ে ফেলি।

ক্যামেরা মুসাওয়ির কি না—এ নিয়ে আলেমদের বিতর্ক আছে এবং থাকবে।

কিন্তু camera হাতে নেওয়ার পর আরও একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই:

যাকে আমি দৃশ্যমান করছি, তার প্রতি আমার দায় কী?

আমি কি শুধু তার মুখটি নিচ্ছি?

নাকি তার vulnerability-ও নিয়ে নিচ্ছি?

আমি কি তার স্মৃতি সংরক্ষণ করছি?

নাকি তাকে এমন একটি narrative-এর মধ্যে আটকে দিচ্ছি, যার ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই?

ছবি তোলার অধিকার আছে কি না—তার আগে এবং পরে তাই আরেকটি প্রশ্ন থেকে যায়:

যাকে দৃশ্যমান করছি, তাকে কি আমরা একজন image হিসেবে দেখি, নাকি মর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে?

ইসলামি ঐতিহ্যে ছবির ইতিহাস তাই শুধু নিষেধের ইতিহাস নয়।

এটি মানুষ কীভাবে দেখে, কীভাবে স্মরণ করে, কীভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে—এবং অন্য মানুষকে দৃশ্যমান করার সেই ক্ষমতা কীভাবে নৈতিকভাবে ব্যবহার করে—তারও ইতিহাস।


References and Further Reading

  1. The Qur’an, 21:52–53, Surah al-Anbiya—ইবরাহিম (আ.), প্রতিমা এবং উপাসনার প্রসঙ্গ।
  2. The Qur’an, 59:24, Surah al-Hashral-Khaliq, al-Bari, al-Musawwir
  3. The Qur’an, 17:70, Surah al-Isra—মানুষের মর্যাদা।
  4. The Qur’an, 49:12, Surah al-Hujurattajassus বা অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান না করার নির্দেশ।
  5. The Qur’an, 24:27–28, Surah al-Nur—অন্যের ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশের আগে permission-এর নীতি।
  6. Al-Bukhari, Muhammad ibn Isma‘il. Sahih al-Bukhari, Hadith 5954—আয়েশা (রা.)-এর ছবিযুক্ত পর্দা এবং আল্লাহর সৃষ্টির অনুরূপ তৈরির প্রসঙ্গ।
  7. Al-Bukhari, Muhammad ibn Isma‘il. Sahih al-Bukhari, Hadith 5963—image-maker-কে তার তৈরি image-এ জীবন দেওয়ার চ্যালেঞ্জের বর্ণনা।
  8. Al-Muṭīʿī, Muḥammad Bakhīt. Al-Jawāb al-Shāfī fī Ibāḥat al-Taṣwīr al-Fūtūghrāfī. গ্রন্থটির প্রকাশনার তথ্য Egypt’s Dar al-Ifta-র Muhammad Bakhit al-Muti‘i-এর official biography-তে তালিকাভুক্ত।
  9. Egypt’s Dar al-Ifta. “What Is the Islamic Ruling on Photography and Drawing Humans?” Fatwa no. 5987, 25 July 2013. Photography ও figurative representation বিষয়ে scholarly disagreement ও permissive interpretation।
  10. Egypt’s Dar al-Ifta. “What Is the Ruling on TV Photos and Camera Pictures?” Fatwa no. 5993, 25 July 2013. Camera photography ও classical taswir-এর পার্থক্য বিষয়ে আলোচনা।
  11. Ibn Baz, ‘Abd al-‘Aziz. “Ḥukm al-Taṣwīr al-Fūtūghrāfī.” Official website of Shaykh Ibn Baz. Photographic image সম্পর্কে restrictive position।
  12. Department of Islamic Art, The Metropolitan Museum of Art. “Figural Representation in Islamic Art.” Heilbrunn Timeline of Art History, 2001. ইসলামি শিল্পে human ও animal representation এবং religious/secular distinction।
  13. The Metropolitan Museum of Art. “The Nature of Islamic Ornament, Part IV: Figural Representation.” ইসলামি শিল্পে figural representation কখনোই ছিল না—এই ধারণার সমালোচনা।
  14. Camera Museum, Vevey. “The Origins of Photography.” ১৯ আগস্ট ১৮৩৯-এ Paris Academy of Sciences-এ photography-র official announcement-এর ঐতিহাসিক তথ্য।
  15. Library of Congress. Abdul Hamid II Collection. ৫১টি album-এ ১,৮১৯টি photograph, আনুমানিক ১৮৮০–১৮৯৩; Ottoman modernization ও photographic self-representation-এর গুরুত্বপূর্ণ archive।
  16. Monk, Anna Canby. “‘Abd al-Ghaffār: The First Meccan Photographer.” Qatar Digital Library / British Library, 18 August 2014. ১৮৮৬–১৮৮৯ সময়ের Mecca ও Hajj photography।
  17. Edwards, Elizabeth, ed. Anthropology and Photography, 1860–1920. New Haven: Yale University Press in association with the Royal Anthropological Institute, 1992. Anthropology, ethnographic documentation ও photographic ways of seeing-এর গুরুত্বপূর্ণ foundational collection।
  18. Behdad, Ali, and Luke Gartlan, eds. Photography’s Orientalism: New Essays on Colonial Representation. Los Angeles: Getty Research Institute, 2013. Middle East ও India-তে photography, colonial representation এবং Orientalist visuality বিষয়ে গবেষণা।
  19. Getty Research Institute. “Orientalist Photography.” ঊনবিংশ শতকের photography কীভাবে Middle East ও North Africa সম্পর্কে European visual imagination গঠনে ভূমিকা রেখেছিল—সে বিষয়ে গবেষণা প্রকল্প।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *