ওয়ারফেইজ-২০২৫ এ
ওয়ারফেইজ শুনলে কি আপনাদের কখনো মনে হয়—“আমরা” বা “সমাজ” বলে সত্যিই কিছু একটা ছিল?
খুব উইয়ার্ড প্রশ্ন, জানি।
কিন্তু আমাদের মনের ভেতরে যে সমাজের ধারণা—তার সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া গঠনে ব্যান্ড সংগীতের ভূমিকা ছিল গভীর। নব্বইয়ের দশক থেকে দুই হাজারের শুরুর দিক পর্যন্ত এই সংগীতগুলো “আমি”র চেয়ে “আমরা”কে সামনে আনত।
শিরোনামহীনে জাহাজী অ্যালবামের পর থেকেই একটা গুরুত্বপূর্ণ শিফট শুরু হয়।
সমাজের জায়গায় ব্যক্তি ধীরে ধীরে প্রধান হয়ে উঠতে থাকে।
হয়তো এটা নব্বই–মিলেনিয়াল নস্টালজিয়া।
কিন্তু আমার মনে হয়, ২০১০-এর পর—বিশেষত ২০১৩-এর পর থেকে—বাংলাদেশের “বৃহত্তর সমাজ” ভেঙে ছোট ছোট গোত্রে গুটিয়ে যায়।
একসময় যে গানগুলো পুরো দেশকে নিয়ে কথা বলত, সেই grand songs আর তৈরি হয় না। তৈরি হয়েছে tribal songs—নিজ নিজ শ্রোতা, নিজ নিজ বৃত্ত, নিজ নিজ নৈতিকতা নিয়ে।
একই সময়ে সাংস্কৃতিক পরিসরে শুরু হয় একধরনের একদলীয় উপাসনা—যার ফল হিসেবে সমাজ আর বহুমাত্রিক থাকে না। ধীরে ধীরে “সমাজ” শব্দটা নিজেই অর্থহীন হয়ে পড়ে। আমরা ছোট ছোট ট্রাইবে ভাগ হয়ে যাই—এবং এখনো সেই ট্রাইবগুলোতেই লড়াই করছি।
জুলাই মাসে কয়েকটা দিন যেন আবার “আমরা”—একটা সমাজ—হয়ে উঠেছিলাম।
খুব অল্প সময়ের জন্য।
তারপর আবার আলাদা আলাদা গোত্র।
আলাদা স্মৃতি।
আলাদা নৈতিকতা।
ইতিহাস বলে—অথরিটারিয়ান রিজিম সবার আগে খায় সমাজকেই।
ব্যক্তি নয়, বিরোধী নয়—সমাজকে।
আর সেই সমাজকে পুনর্গঠন করা?
ওটা অন্তত অর্ধ-শতকের প্রকল্প।
এটা কি শুধু আমার মনে হয়?
আপনাদের কি এমন লাগে?
ভিন্নভাবে লাগলে জানাবেন।
বাই দ্য ওয়ে—আমি এই লেখাটা লিখতে লিখতে সত্য শুনছিলাম।
একটা গান না—পুরো অ্যালবামটা।
আপনারাও চাইলে শুনে দেখতে পারেন।
২৮শে জুলাই ২০২৫, ঢাকা।