ছয় সেকেন্ডের ঢাকা
ঢাকার সন্ধ্যার এক মুহূর্তে আন্দোলন, পরিচয় ও নৈতিক দ্বিধার মুখোমুখি হওয়ার একটি সংক্ষিপ্ত শহুরে গদ্য।
সন্ধ্যা ৫:৩৭।
সূর্য অস্ত গেছে বেশ আগে। প্রগতি স্মরণী হয়ে কুড়িলের দিকে ছুটে চলেছি। ফ্লাইওভারে উঠে র্যাডিসন ব্লুর সামনে দিয়ে মিরপুরে ঢুকবো। দূর থেকে আবছা ফ্লাইওভার দেখা যাচ্ছে। এমনই সময় ডানদিক থেকে একটা মিছিল তেড়ে এল। সবার হাতে প্রিন্ট করা ফেস্টুন।
আমার বাম পাশে বিআরটিসি বাস থমকে দাঁড়ালো। ডানদিকে হোন্ডা সিআর-ভি হতবুদ্ধি। আন্দোলনকারীরা ডানদিকের রাস্তা আটকে ফেলেছে। মাঝখানের ডিভাইডার পার হয়ে বাম দিকেও রাস্তা আটকানো শুরু হয়েছে। একটি মোটরসাইকেল হুশ করে বেরিয়ে গেল। আন্দোলনকারীরা আরও সতর্ক। দ্রুততম সময়ে বাম দিকের রাস্তা আটকে দিচ্ছেন।
আমি বাম দিকের শেষ ফাঁকটুকুর দিকে টান দিলাম। একজন চেকশার্ট পরা তরুণ দৌড়ে এলেন। রাগী চোখে আমার দিকে তাকালেন।
—“খবরদার, একটা গাড়িও যেতে পারবে না।”
তার পাশেই কেউ একজন বলে উঠল,
—“ব্র্যাক, ব্র্যাক।”
সম্ভবত স্টিকারের দিকে চোখ গেছে।
তিনি হুডি পরা। চোখের কোণা দিয়ে একবার তাকিয়ে ইশারা করলেন বেরিয়ে যেতে। সঙ্গে থাকা চেকশার্ট পরা ছেলেটিও বললেন,
—“স্যার, চলে যান।”
পৌনে ছয় সেকেন্ডের মধ্যে পুরো ঘটনাটা ঘটল।
এখনও হয়তো খবরটা জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সনে আসেনি। ছোটখাটো অনলাইন পোর্টালেও নেই। এই মাত্র বাসায় পৌঁছালাম।
এখন বুঝতে পারছি না—
ঢাকার নাগরিক হিসেবে আন্দোলনের জ্যাম থেকে বেঁচে যাওয়া উদ্যাপন করবো,
নাকি সহনাগরিকদের আটকে পড়া নিয়ে বিমর্ষ হবো।
নাকি ব্র্যাক পরিচয়ের কারণে কৃতজ্ঞ হবো,
নাকি আন্দোলন গবেষক হিসেবে সেখানে না থেকে যাওয়ার জন্য আফসোস করবো।
পুনশ্চ: এখনও বুঝতে পারছি না, তরুণরা আমাকে “স্যার” কেন বললেন।
সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিট
১২ ডিসেম্বর ২০২৫