বন্দুকের দোকান
বন্দুকের দোকান | একটি সমকালীন বাংলা কবিতা
আমার বাড়ির নিচে বন্দুকের দোকান
সেখানে ব্যাংকক থেকে আসা বন্ধুরা বসে থাকে।
বন্ধুরা—তারা পরস্পর মুখোমুখি অ্যাপার্টমেন্ট বানিয়ে
গাড়ির ভেতরে, পার্কিংয়ে ঢুকে বসে থাকে
সন্তানদের থেকে বিরতি নেবার জন্য।
কখনো সুইমিং পুলে সাঁতরে,
সেখানে নিউ ইয়র্ক থেকে আসা বিকিনিরা
কারোরই অপেক্ষা করে না।
ইনফিনিটি পুলে তারা
ওকিনাওয়া বিচের গল্প করে—
দুষ্ট-মিষ্টি গল্প।
বন্ধুরা লন্ডন থেকে লাইভে আসে,
দেখায় দেশের ভবিষ্যৎ,
শোনায় আইসল্যান্ডের গল্প,
এমনকি পরিকল্পনা করে আফ্রিকা ট্যুরের,
যেনবা বাৎসরিক বাজেট নিয়ে আলোচনা।
আমার বাড়ির নিচে বন্দুকের দোকান।
ওকিনাওয়া, নিউ ইয়র্ক, ব্যাংকক আর লন্ডনের বন্ধুরা
সেখানে বন্দুক হাতায়,
মাজলে আলতো চাপ দেয়, গ্রিপ করে
তাদের চোখ চকচক করে,
মন প্রফুল্ল হয়, নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসে।
শেলফ থেকে শেলফে বন্দুকের ট্যুর করে,
এবং রাতে চুমোচুমি শেষ করে
বন্দুকের স্বপ্ন দেখে—
গ্লক, বেরেটা, ডেরিঞ্জার, ডেজার্ট ইগল।
এরা চাইলেই বন্দুক কিনতে পারে,
কিন্তু কেনে না।
প্রতি শনিবার ঠিক পৌনে ছ’টায়
এরা বন্দুকের দোকানে আসে।
তখন আমি তাদের দেখি।
বন্ধুদের দেখতে আমার বড় ভালো লাগে।
— শরৎ চৌধুরী, ১লা নভেম্বর, ঢাকা, ২০২৫।