|

ক্র্যাচের ছায়া

ক্র্যাচের ছায়া | ঢাকার এক শহুরে ক্ষণলিপি

ঢাকার সন্ধ্যায় এক ডেলিভারি সাইকেল আর একটি ক্র্যাচের ছায়ার মধ্য দিয়ে নাগরিক বিরক্তি ও নৈতিক উপলব্ধির গল্প।

ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে বাসার দিকে যাত্রা শুরু করতেই পেছন থেকে একটা সাইকেল এসে ধাক্কা দিল। মিররে দেখলাম—ডেলিভারি বয়। নিজের আর সাইকেলের ওজনের দশ গুণ বেশি বোঝা নিয়ে ছুটছে। বিরক্তি চরমে উঠল। না জানি গাড়ির কোন অংশ আবার ঠিক করাতে হবে। জ্যামের মধ্যে বাম পাশ দিয়ে হ্যান্ডেল আঁকাবাঁকা করে এগিয়ে যাচ্ছে; আবার কাকে ধাক্কা দেবে কে জানে। একটা sorry পর্যন্ত বলল না। সারাদিনের পরিশ্রমের শেষে বাসায় ফেরার শান্তিও নেই।

প্রায় পয়তাল্লিশ মিনিট পর নানান হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে নিজের এলাকায় ঢুকছি। সন্ধ্যা নেমেছে। হেডলাইটের আলোতে রাস্তার অপর পাশে আরেকজন সাইকেলওয়ালাকে দেখলাম—উনিও ডেলিভারি বয়। নিজের ওজনের চাইতেও বেশি বোঝা বোধহয়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু পেছনের গাড়িগুলোর আলো তাকে সরে যেতে ধাক্কা দিচ্ছে—শহরের অদৃশ্য রুলবুক অনুযায়ী তাকে আবার চলতেই হবে।

আগের জমে থাকা বিরক্তি মাথা চাড়া দিল। ভাবলাম—‘এইটাও আবার কাউকে ধাক্কা মারবে।’

খুঁটিয়ে দেখতে চাইলাম।

ঠিক তখনই পেছন থেকে হর্ণ খেঁকিয়ে উঠল। বামে টার্ন নিলাম।

আর তখনই চোখে পড়ল—ডানদিকে যেন কিছু একটা মিসিং।

একটা জরুরি চিহ্ন থাকার কথা ছিল।

একটা ছায়া।

কিন্তু নেই।

শুধু সাইকেল হ্যান্ডেলের ডান পাশে আড়াআড়ি করে বসানো একটা আস্ত ক্র্যাচ।

আর পেছনের গাড়ির আলোতে লম্বা যে ছায়াটা তৈরি হয়েছে—

সেটা ক্র্যাচের, মানুষের নয়।

শরৎ চৌধুরী, ১৬ই নভেম্বর ২০২৫।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *