লিফটের সামনে এক ভুল আত্মীয়তা
ভদ্রলোকের বয়স পঞ্চশ পেরিয়েছে, গালে ছোট দাড়ি। মোটরসাইকেল গেটের বাইরে রাখা। হেটমেট খুলতে খুলতে তিনি কথা বলছিলেন দারোয়ানের সাথে। দারোয়ান না বলে গেট বালক বলাই ভালো হবে। আরো ভালো হয় যদি মোবাইল বালক বলি। মন আর চোখ দুটোই মোবাইলে। সারাদিন মোবাইল টিপতে টিপতে হাতের শক্তি শেষ হতে বসেছে। হাত দিয়ে গেট আর খোলেনা। যাইহোক, ভদ্রলোকের সাথে হৃদয়ের কথা হচ্ছে। গেটও অনেকখানি খুলেছে।
ভদ্রলোক ঘোষনা দিলেন
-ছয় তলায় যাবো।
-যান
-দুলাভাই তো ছয় তলায়ই থাকে?
-আমি কীভাবে বলব? (দূর থেকে দেখা গেল মোবাইল থেকে চোখ সরাতে হৃদয়ের হৃদয় ভেঙ্গে যাচ্ছে)
-তাহলে কে ছয় তলায় থাকে?
হৃদয় উত্তর দিতে দেরী করছে।
এই সময় আমি (দুর্ঘটনাক্রমে) লিফট থেকে নামলাম।
ভদ্রলোক আমার দিকে এগিয়ে আসলেন। চোখে সন্দেহ এবং কৌতুহল।
এরপরই হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে বিরাট কিছু পেয়ে গেছেন এভাবে চিৎকার দিয়ে বললেন,
-আরে চিন্তা নাই। পেয়ে গেছি।
এবার তিনি আবারো আমার দিকে তাকালেন।
-এই যে দুলাভাই।
বলা শেষ না করেই উনি কাছে আসতে থাকলেন। আর আমি পেছাতে থাকলাম।
উনি আরো কাছে আসলেন। আমার পেছানোর আর জায়গা নেই।
উনি বললেন
-আরে দুলাভাই।
আমি হৃতবিহ্বল কন্ঠে জানালাম।
-কে আপনার দুলাভাই?
-আমি আপনার দুলাভাই না।
এবার উনি একটু পেছালেন। আস্তে আস্তে পেছাতে পেছাতে হৃদয়ের কাছে গেলেন। হৃদয়ের চোখ মোবাইলে। ভদ্রলোক নিজের মোবাইল বের করে আবার ঠিকানা দেখলেন।
বোঝা গেলে বিল্ডিং এ ঝামেলা হয়েছে। এপার্টমেন্ট নাম্বারেও।
তিনি মোবাইলে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। হৃদয়ও।
সুযোগ বুঝে আমি বেরিয়ে যাচ্ছি।
রিয়ারভিউ মিররে ভদ্রলোকের মাথা অর্ধেক দেখা যাচ্ছে।
আবার উনি হাত তুললেন।
পেছন থেকে ডাক এল
-দুলাভাইই।
আমি জোরে গাড়ী টান দিলাম।
এই শহরে কত শ্যালকই না ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন, দুলাভাইয়ের খোঁজ এ। দয়া করে মোবাইলে যদি উনারা দুলাভাইয়ের ছবিটি রাখতেন। তাহলে বেশ হোত।
শরৎ চৌধুরী, ৮ই অক্টোবর, ২০২৫।